স্বামী এবং স্ত্রীর নামে যৌথ ব্যাংক একাউন্টের সুবিধা - Joy D. Biswas ✌✌™

Joy D. Biswas ✌✌™

Joy D. Biswas ✌✌™ Personal Webpage

Joy D. Biswas ✌✌™

Post Top Ad

Sunday, October 20, 2019

স্বামী এবং স্ত্রীর নামে যৌথ ব্যাংক একাউন্টের সুবিধা

স্বামী-স্ত্রীর নামে যৌথ একাউন্ট খোলার সুবিধা যেমন রয়েছে তেমনি আবার অসুবিধাও রয়েছে। রাজীব এ বছরের মার্চ মাসে রিয়ার সাথে বিয়ে করেছে। তার মনে হয়েছিল, রিয়া তার প্রকৃত সোল মেট (Soul mate)। কিন্তু তাদের সুখের জীবনে বেশিদিন সুখের ঠিকানা থাকল না। অর্থ এদের সুখের জীবনে অনর্থ বয়ে নিয়ে আসলো। কীভাবে?
একমাস যেতে না যেতেই তারা তাদের মাসিক খরচ ম্যানেজ করতে হিমশিম খাচ্ছিল এবং এই নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হল। এ ঝগড়ার কোন সুরাহা হলো না, যত দিন যায় তাদের বৈবাহিক জীবনে অশান্তি ততই বাড়তে থাকে। তাদের মূল সমস্যা হচ্ছে, তারা বেতনের টাকা বেহিসাবি ভাবে খরচ করত।
মিলে যাচ্ছে নাকি আপনার সাথে? এমন অনেক কাপলই আছেন, বিশেষত বিবাহিত কাপল যাদের জীবনে অর্থনৈতিক গোলযোগের জন্য বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটছে। আমরা জানি, একটা সুষ্ঠ ও সুন্দর সম্পর্কে ফাটল ধরাতে, অর্থনৈতিক ইস্যু… আরও সহজ ভাবে, টাকাটাই যথেষ্ট। তবে এই সমস্যার সমাধানটা খুবই সহজ। কি বলেছেন? বিবাহ বিচ্ছেদ?
না… না… আমি বিবাহ বিচ্ছেদের কথা বলছি না। আমি বলছি, আপনারা একসাথে একটা জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খুলুন। হ্যাঁ… শুধু এতটুকুতেই সমাধান। জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খুললে আপনার বৈবাহিক জীবনে শান্তি ফিরে আসবে। এবং এটাই সবচেয়ে সহজ ও লাভজনক উপায় আপনার বৈবাহিক জীবনে সুখ-শান্তি ফিরিয়ে আনার। আপনার জীবন সঙ্গীর সাথে আপনি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খুলবেন কিনা, সেইটা আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু আপনি যদি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার সিদ্ধান্ত নেন(আমি বলব, অ্যাকাউন্ট খুলতে) তাহলে নিচের টিপসগুলো ফলো করুন।
আপনাদের ২ জনের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট কতগুলো আছে তার একটা তালিকা তৈরি করুন। সেভিংস অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড অ্যাকাউন্ট ইত্যাদি সকল অ্যাকাউন্টের তালিকা তৈরি করুন। সবগুলো অ্যাকাউন্টের তালিকা তৈরি করার পর ভেবে দেখুন, কোন অ্যাকাউন্টগুলো আপনি রাখতে চান আর কোনটা বন্ধ করতে চান। আমি জানি, এইটা খুব কষ্টকর একটা কাজ উপরন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও বটে।
আপনি যে অ্যাকাউন্টগুলো রাখতে চাচ্ছেন সে অ্যাকাউন্টগুলোর একটা ২ জনের নামে করুন। বন্ধকৃত অ্যাকাউন্টের টাকাটা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে পারেন। জয়েন্ট অ্যাকাউন্টটা আপনার পার্টনারের জন্য রেস্ট্রিকটেড রাখবেন না। জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট এমন ভাবে খুলুন যেন দু’জনেই সেখান থেকে টাকা উঠাতে পারেন। এই অ্যাকাউন্টের ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দুজনের কাছে রাখুন। এতে আপনারা ইচ্ছামত ও বেহিসাবি খরচ থেকে বিরত থাকতে পারবেন।
আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আপনার খরচের পরিমাণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ব্যাপারে আপনার সঙ্গীকে জানান। সপ্তাহে অন্তত একদিন বিকেলের চায়ে আপনারা আপনাদের অর্থনৈতিক প্ল্যান একে অপরের সাথে আলোচনা করুন। হ্যাঁ, খুব স্বাভাবিক ভাবে, আপনাদের ভাবনাগুলো আলাদা হতে পারে কিন্তু আপনার সঙ্গীর চিন্তাভাবনা সম্পর্কে আপনার জানা উচিত। একই ভাবে, আপনার সঙ্গীরও আপনার ব্যাপারে জানা উচিত। এভাবে একে অপরের চিন্তাভাবনা ও খরচের পরিমাণটা জানলে আপনারা খুব সুষ্ঠভাবে সংসারের জন্য কোন নতুন জিনিস কেনা বা কোথাও বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যানটা করতে পারবেন।
আমি একটু আগেই বলেছি, আপনি ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্টটা ঠিকভাবে না করতে পারলে আপনার বৈবাহিক জীবনে ঘোর অমাবস্যা আসতে পারে কিন্তু আপনি যদি আপনার সম্পর্কে আর্থিক ঝামেলাটা না চান তাহলে তাড়াতাড়ি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলুন। আপনার সঙ্গীর সাথে জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খুললে কি কি সুবিধা হতে পারে সেইটা বলছি।
আপনাদের আর্থিক যোগাযোগটা ভালো হবে
সাধারণত কাপলরা তাদের খরচের ব্যাপারে একে অপরের সাথে আলোচনা করতে চায় না। এবং এইটা মটেও একটা ভালো সিদ্ধান্ত না। কারণ আপনি যদি আপনার খরচের বিষয়ে আপনার সঙ্গীর সাথে আলোচনা না করেন তাহলে আপনি জানতে পারবেন না, আপনার এই অতিরিক্ত খরচের অভ্যাসটা আপনার পরিবারের উপর কত বড় একটা আর্থিক সংকট নিয়ে আসতে পারে।
জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট শুধুমাত্র একে অপরের সাথে আর্থিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে সাহায্যই করে না, এইটা আপনার অতিরিক্ত খরচের অভ্যাসটা বদলাতেও সাহায্য করে। পাশাপাশি এইটা আপনাদের মধ্যে কোন আর্থিক গোপনীয়তা রাখে না। আপনারা একে অপরের আয়, ব্যয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং আর্থিক সমস্যা এড়িয়ে চলতে পারবেন।
সঠিক বাজেট ও সেভিংস
জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের সবচেয়ে বড় সুবিধাটা হচ্ছে, এইটা আপনার খরচ নিয়ন্ত্রন করে। যখন আপনার সব টাকা এক জায়গায় জমা থাকবে তখন হিসাব করাটা খুব সহজ হবে। এবং আপনি জানতেও পারবেন, কত পরিমাণ টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে আর কত পরিমাণ খরচ হচ্ছে। এভাবেই আপনার আর্থিক স্বচ্ছলতা আসবে।
আর্থিক দায়িত্ব
জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট আপনার ও আপনার সঙ্গীর ভেতরে একটা চরম দায়িত্ববোধ তৈরি করবে। আপনাদের উভয়েরই ভবিষ্যৎ আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য দায়িত্ববোধ বাড়বে। অনেকটা স্বস্তি পেলে, তাই না? আমি বলেছিলাম, আপনার উপকার হবে। আপনার খরচের স্বাধীনতা নষ্টের ব্যাপারে চিন্তা করেন না। আপনি খরচ করা ও খরচ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সৎ থাকবেন তাহলেই হবে।
শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং
“আমার টাকা, তোমার টাকা!” এই ধরণের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। আপনারা একে অপরের সাথে সারাটা জীবন ভাগাভাগি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাহলে সামান্য টাকাটা ভাগাভাগি করে নিবেন না কেন?
এখন কি আপনার মনে হচ্ছে আপনার জীবনসঙ্গীর সাথে একটা জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারি সিদ্ধান্ত? নাকি এখনও আপনি নিজের অর্থনৈতিক বিষয়গুলো গোপন রাখতে চাচ্ছেন? 

সুত্রঃ সংগৃহীত 

If You Have Any Question Or Comment Please Write A Comment, I Will Answer It As Soon As Possible....Thank You....

যদি আপনার কোনও প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকে তবে মন্তব্য লিখুন, আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এর উত্তর দেবো.......... আপনাকে ধন্যবাদ ।।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad